সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪
Online Edition

সিলেটে বন্যায় পর্যটন খাতে লোকসান আড়াইশ’ কোটি টাকা

সিলেট ব্যুরো: দেশের নৈসর্গিক লীলাভূমি সিলেট। এখানে রয়েছে পাহাড়, ঝর্ণা, নদী, হাওড়, অরণ্য, চা বাগান কিংবা জলারবন। এই সিলেটে ঈদ কিংবা অন্যান্য বিশেষ দিনে ছুটি কাটাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসেন হাজারো পর্যটক। এবারের ভয়াবহ বন্যার কারণে প্রবাসী অধ্যুষিত পুণ্যভূমি সিলেটে আসতে পারেননি পর্যটকরা। বন্যার কারণে পর্যটনগুলো বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। হোটেল মোটেল বন্ধ থাকায় পর্যটন সংশ্লিষ্টরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। পর্যটকদের হযরত শাহজালাল (র.) ও শাহপরান (র.) সহ ৩৬০ আউলিয়ার স্মৃতি বিজড়িত সিলেটকে বলা হয় দেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী। প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে সিলেটের পরিচিতি বিশ^জুড়ে। গেল ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সিলেটে পর্যটকের ঢল নামে। এ সময় পর্যটন খাতে ফিরে আসে প্রাণচাঞ্চল্য। হাসি ফুটে পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মুখে। ঈদুল আযহা ঘিরে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন তারা। কিন্তু আকস্মিক বন্যায় ল-ভ- হয়ে যায় সিলেটের পর্যটন খাত। এদে শুধু ঈদুল আযহা উপলক্ষে এই খাতে ক্ষতি হয়েছে কমপক্ষে আড়াইশ’ কোটি টাকা।

গত ১৭ জুন উদযাপন হয় পবিত্র ঈদুল আযহা। ঈদ উপলক্ষে এ সময় সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত থাকার কথা। কিন্তু বন্যার কারণে বন্ধ ঘোষণা করায় সাদাপাথর, জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুলসহ সব পর্যটন কেন্দ্র জনমানবশূন্য হয়ে পড়ে। এতে আড়াই’শ কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়ে সিলেটের পর্যটন খাত। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় দশকে সিলেটের পর্যটন খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছেন প্রবাসী ও বেসরকারি উদ্যোক্তারা। গড়ে উঠেছে অসংখ্য হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট। গত এক দশকে সিলেটে পর্যটক সমাগমও বেড়েছে ব্যাপকহারে। ছুটির দিনগুলোতে সিলেটে কোনো হোটেল-মোটেলে কক্ষ খালি পাওয়া দুরূহ ব্যাপার। গত ঈদুল ফিতরেও সিলেটে হোটেল-মোটেল সিট খালি ছিল না। আড়াই মাসের মাথায় সাম্প্রতিক বন্যায় বড় ধরণের হোচট খেয়েছে সিলেটের সম্ভাবনায় এই খাতটি। সামনে বড় ছুটি না থাকায় দীর্ঘ লোকসানের মুখে পড়ার শঙ্কায় এ খাত সংশ্লিষ্টরা।

ঈদের ছুটিতে সরেজমিনে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, সাদাপাথর এলাকা পানির নিচে নিমজ্জিত, দেখা যাচ্ছে না পর্যটন স্পট। পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদী ফুলে ফেঁপে উঠেছে। তাই সাদাপাথর এলাকায় যাওয়া পর্যটকদের জন্য দুরূহ ব্যাপার। তখন পর্যটকরা ঘাটে এসে নিরাশ হয়ে ফিরে যান নিজ গন্তব্যে। শুধু সাদাপাথর নয়, একই চিত্র ছিল জাফলং, রাতারগুলসহ সিলেটের সকল পর্যটন স্পটের। 

স্থানীয়রা জানান, বছরে ২টা ঈদে পর্যটন খাতের মানুষগুলো বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে বসে থাকে। এর আগে করোনা এবং ২০২২ সালের প্রলয়ংকরী বন্যায় দীর্ঘসময় সিলেটে পর্যটন খাতে স্থবিরতা নেমে আসে। ঈদুল ফিতরে কিছুটা ব্যবসা হলেও ঈদুল আযহায় ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েন এই খাতের হাজার হাজার মানুষ। সামনে আর বড় ছুটি না থাকায় আরো দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকতে হবে পর্যটক সংশ্লিষ্টদের।

সাদাপাথর পর্যটন ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সফাত উল্লাহ বলেন, ঈদুল আযহা উপলক্ষে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ব্যাপক প্রস্ততি ছিল। অনেক ব্যবসায়ী ঋণ করে বিনিয়োগ করেছেন। দোকানে মালপত্র তুলেছেন। কিন্তু আকস্মিক বন্যায় ও পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ হওয়ায় আমরা বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছি। ধার-কর্জ করে মালপত্র তুলে অনেকেই বিপাকে পড়েছেন। এই ক্ষতি সহজে কাটিয়ে উঠা সম্ভব নয়।

সিলেট হোটেল এন্ড গেস্ট হাউস ওনার্স এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গার্ডেন ইনের পরিচালক নওশাদ আল মুক্তাদির বলেন, আকস্মিক বন্যায় সিলেটের পর্যটন খাতে ধস নেমেছে। এই ক্ষতি আগামী ১ বছরেও কাটিয়ে উঠা সম্ভব নয়। কারণ বছরে ২টি ঈদকে আমরা প্রাধান্য দিয়ে থাকি। সারাবছরই হোটেল গেস্ট হাউসে মন্দাভাব বিরাজ করে। ঈদ ঘিরে সব হোটেল-মোটেলকে নতুনভাবে সাজানো হয়। কিন্তু এবার সবটুকুই লোকসান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ