সোমবার ১৭ জুন ২০২৪
Online Edition

সিলেটে টিলাধসে মাটিচাপায় বাবা-মা ও সন্তানের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট ব্যুরো: সিলেট নগরীতে টিলাধসে মাটিচাপায় আটকা পড়া একই পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। গতকাল সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফারুক আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিন দুপুর ১২টার দিকে উদ্ধার কাজে যোগ দেয় সেনাবাহিনী। নিহতরা হলেন-ওই এলাকার বাসিন্দা মো. করিম উদ্দিন, তার স্ত্রী শাম্মী আক্তার রুজি ও ১৬ মাসের সন্তান তানিজ। এর আগে সকাল ৭টার দিকে নগরীর মেজরটিলা চামেলীভাগ মোহাম্মদপুর এলাকায় টিলাধসের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের ৯ জন মাটিচাপা পড়েন। স্থানীয়রা ৬ জনকে উদ্ধার করতে পারলেও তিনজন মাটির নিচে চাপা পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাকির হোসাইন বলেন, সকাল ৭টার দিকে বিকট শব্দ হয়। এরপর পার্শ্ববর্তী একটি টিলা ধসে পড়ে করিম উদ্দিনের ঘরে। এতে একই পরিবারের ৯ জন মাটির নিচে আটকা পড়েন। তাদের মধ্যে ৬ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তিনজনকে কোনোভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মাটিচাপা থেকে উদ্ধার করা ৬ জনের মধ্যে রয়েছেন, করিম উদ্দিনের বড় ভাই রহিম উদ্দিন, তার ছেলে অমিত (১৬), মেয়ে তাসনিয়া (১২), তাহসিনা (৬), তানিয়া (৪ মাস) ও রহিম উদ্দিনের স্ত্রী। এ ঘটনার পর হতাহতদের উদ্ধারে অভিযানে নামে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু ঘটনার ৫ ঘণ্টা পরও উদ্ধার করতে না পারায় দুপুর ১২টার দিকে উদ্ধার কাজে যোগ দেয় সেনাবাহিনী। সিলেট ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ফায়ার সার্ভিসের তিনটি দল উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে। সঙ্গে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও ছিলেন।

ঘটনার পর সিলেট শাহপরাণ থানার ওসি মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ চৌধুরী বলেন, পাহাড় ধসের খবর পেয়ে সকাল ৭টার দিকে আমাদের একটি টিম ঘটনাস্থলে যায়। ভারি বৃষ্টির কারণে টিলার মাটি ধসে একটি আধাপাকা ঘরের ওপরে পড়েছে। ঘরটি টিলার নিচেই ছিল। ওই বাসায় দুটি পরিবার থাকে জানিয়ে ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভূমি ধসে ঘরের নিচে দুই পরিবারের ছয়জন আটকা পড়েছিলেন। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও আমরা এসে একটি পরিবারের তিনজনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করতে পেরেছি। বৃষ্টির কারণে উদ্ধার আভিযান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম।

সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলছিলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট, পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের ৩০ জন উদ্ধারকর্মী উদ্ধারে কাজ করছে। উদ্ধার কাজ আরও জোরদার করার জন্য সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সিলেটে বৃষ্টিপাত বেড়েছে। বর্ষাকলে এখানে টিলা ধসের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। তাই সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এই সময়ে টিলার নিচে বা ওপরে কাউকে না থাকার অনুরোধ জানিয়ে এ সময় মেয়র বলেন, অপরিকল্পিতভাবে টিলা কাটার কারণে ধসের ঘটনা ঘটছে। তাই টিলা কাটা এবং টিলার আশেপাশে থাকা থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবো। বিষয়টি নিয়ে নগর ভবনে জরুরি সভার আহ্বান করেছি এবং জনসচেনতা বাড়াতে ঝঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মাইকিং করবে সিলেট সিটি করপোরেশন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ